শৈশব স্মৃতিদল

 আজ থেকে বারো তেরো বছর আগের এক পৌষ সংক্রান্তি তে বাবার আঙুল ধরে বাউলের মেলায় গিয়েছিলাম। ঘর ম ম করছিলো পিঠা পার্বণের সেই দিন গুলোতে। 

গরম ভাতের ঘ্রাণ 

পৌষ এর শেষ আর মাঘ এর শুরু,  বুড়ির ডালা থেকে ভেসে আসা মাইকের আওয়াজে ভেসে আসা কুমার শানুর বাংলা আর অলকাগ্নিক এর হিন্দি গান !! কিসব দিন ছিল জীবনে..

শৈশব স্মৃতিদল

IKIGAI বুক রিভিউ 

পিঠা পুলি,  ভাপা, পাটি সাপটার পেটে ক্ষীর মাখানো বিকেল গুলো কর্পূরের হাওয়ায় ওরে গেছে কই..

বাউলের মেলায় কদমা আর জিলাপি, জিভে লেগে আজো সেই স্বাদ।

সেবার বাবা মেলা থেকে শালগম কিনে এনেছিলো। দিদির জন্য ফেয়ার এন্ড লাভলি,  আমার জন্য মাটির পুতুল।

ক্যারিয়ার কি? ক্যারিয়ার  ভাবনা এবং কিছু সহজ কথা

মা সেই শালগম দিয়ে ঝাটকা ইলিশের ঝোল রেঁধেছিল।  তারপর আর আমাদের ঘরে শালগম আনা হয়নি। আমার মনে পরে না।

এত বছর পর আমি স্কুল,  কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে চাকরি জীবনে। কর্মস্থলে থাকার সুবাদে ভুলে গেছি ছোটবেলার বাউল মেলা। কম্বিং অপারেশনে ব্যস্ত জীবন ভুলে গেছে পৌষ সংক্রান্তির মেলার কথা। পিঠা পুলির ঘ্রাণ মাখানো শৈশব যে ঘরে মিশে ছিলো তা ছেড়ে পালিয়েছি বহু আগে। সেই যে ঘর ছাড়লাম আমার বুঝি আর ফেরা হলো না।

এখানে জীবন বলতে ৯-৪ অফিস।তারপর সময় করে বাজার করা।বাজরে গিয়ে চোখ আটকালো শালগমে। বাজার থেকে শালগম কিনে আনলাম। রান্না হলো রুই মাছ, ফুলকপি, টমোটো আর আলু দিয়ে৷ আজ থেকে বারো বছর আগের সেই মাছের ঝোল টা হয়নি ঠিকই তবে খেতে খেতে হেঁটে এসেছি শৈশবের দিনগুলিতে। বয়ঃসন্ধির বাউলের মেলা আর ফাইনাল সেমিস্টারের ফলাফলের চাপ! মন ফিরে গেছিল সেই পতুল কিনা বিকেলে। জীবনের কাছে রেখে গেলাম সেই ঋণের সুদ...

মনে হয় এই চাকরির গলা টিপে ধরি। গ্রোয়িং আপ নামক ট্র্যাপকে বলি কেরে তুই কেরে তুই 

সব সহজ শৈশব বদলে দিলি কিছু যান্ত্রিক বর্জ্যে....

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url