গরম ভাতের ঘ্রাণ
ছোট বেলার অভ্যাস হিসেবে এখনো রাত জাগা কাটিয়ে ওঠতে পারিনা। রাত জাগতে গেলেই মনে পরে কাল সকালে অফিস। পরে পরে ঘুমাই আর আপু ডেকে দেয় পূজা ৯ টা বাজে।
![]() |
| গরম ভাতের ঘ্রাণ |
আপুর অবশ্য মা-বাবুর মতোন সময় বাড়িয়ে বলার অভ্যাস নেই। মা সকাল সাতটা বাজলে বলতো বেলা কতো হলো। ৯টা বাজে তো...
তারপর ল্যাদখোর আমি কোনো মতে দাঁত ব্রাশ করে, টেনে টুনে চুল আঁচড়ে অফিসে দৌড় দিই। সকালে আর সময়মতোন ওঠা হয়না আমার।
তারপর মনে পরে স্কুল লাইফের সকাল গুলো। ৬ টায় বের হয়ে যেতাম। কতো তাড়া। সময় মতোন টিউশন ধরতে হবে। নোটখাতায় সব টুকতে হবে। না হয় টপার হওয়া যাবেনা।
ক্লাস শুরুর ২০ মিনিট আগে বাড়ি আসতাম। মা গরম ভাত পাতে দিত। কোনো মতে খেয়ে আবার স্কুলে দৌড়। জলিল ভাই গেইট বন্ধ করে দিত। তখন প্যারা খাওয়া লাগত। তারমধ্যে প্রথম ঘন্টায়ই নাসিমা ম্যামের ইংলিশ ক্লাস। জমের মতেন ভয় পেতাম ম্যামকে।
সেসব সকাল কেটে গেছে। বড় হয়ে গেছি আমি। জীবন একান্তই আমার। চুলোয় পাতিল বসালে গরম ভাত কপালে জুটবে.. নইলে ডিম সিদ্ধ খেয়ে ভুলে যাও সব।
অফিস যাওয়ার আগে প্রায়ই মনে হয়, ইশ মা যদি গরম ভাত প্লেটে তুলে দিত! আমি তাড়াহুড়ো করে ৫ মিনিটেই খেয়ে ফেলতাম। কিংবা বাজার করতে যেয়ে মনে হয় এতো গুলো ব্যাগ তো বাবা সারা জীবনভর বহন করলো। কাঁধের সমান ভারী এই দায়িত্ব।
সব ভুলে ক্লান্তি মাখা মুখে ডরমিটরিতে ফিরে দেখি উপজেলার মুয়াজ্জিন ভরাট কন্ঠে আজান দিচ্ছে...
একের পর এক বিকেল কেমন বেহিসাবেই কেটে যাচ্ছে....
