প্যারিসের চিঠি
প্রিয় নিখিলেশ,
জীবনের প্রথম চাকরিতে জয়েনের পর পাখির মতো ডানা মেলে ওড়তে ওড়তে গিয়েছিলাম সুপ্রীম কোর্টে। চাকরির চিঠি জমা দিতে। বেকার মেয়েটার ছাতা ছিলো না। তখন হিসেব মিলাতে পারছিনা বেকারত্বের স্বাদ না পাওয়ার আগেই চাকরি মিলে যাওয়া অংঙ্কের!
![]() |
| প্যারিসের চিঠি |
সেদিন সুপ্রীম কোর্টের বারান্দায় কাঠগোলাপ হাতে দাঁড়িয়েছিলাম। বাইরে ঝুম বৃষ্টি... বৃষ্টিতে আটকে পরেছি। মনে হয়েছিল তোমাকে ডাকলেই তুমি রিক্সা ধরে প্যারিস থেকে ফিরে আসবে। তারপর ভুল গন্তব্যে আমরা হাঁটবো। আমি মিরপুর আসার বদলে কাকরাইল মোড়ে চলে যাবো... তুমি পাখি হয়ে দেখবে চাতকের মতোন...
কিন্তু সাহস হলো না আমার। তোমায় ডেকে আকাশ ঝড়ানোর দুঃসাহস করতে পারলাম না আমি। ফোন হাতে নিয়ে মনে হলো তুমি জীবনানন্দের কবিতার বইয়ের মতোন সারা জীবন ধরে সুভাষ বিলিয়ে যাওয়া ভালোলাগা। কিংবা তুমি ওই দূর আকাশের স্বল্প দূরত্বের আকাশযান। তুমি না লেখা কবিতাগুলোর মতোন। যাকে ছোঁয়া হলোনা, জানা হলোনা, দেখা হলোনা... শুধু জানলাম সে আমার।
তাই আর সাহস করে ডাকিনি তোমায়। মনে হলো তুমি তো আছো সমস্ত না থাকা জুড়ে। ডেকে এনে হিসেব বাড়িয়ে তিক্ততায় জড়িয়ে কি লাভ।
তাই আমাদের কখনো দেখা হলোনা। আমি জানি প্যারিস থেকে চট্টগ্রাম কয়েক আলোকবর্ষ দূর... তার মধ্যে রাস্তায় খুব জ্যাম...
তারারা ঝড়ে পরলে কিংবা নক্ষত্র পতন হলে আমি তাদের থেকে দূরত্ব মাপার সূত্র শিখে নিবো। ও নিয়ে ভেবোনা তুমি...
অঞ্জন দত্তের মতো চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি নিখিল শুনছো বলার সুযোগ আমার কাছে ছিলনা। মান্না দে বলে গেছেন তুমি প্যারিসে অথচ পারির রাজপথ, অলিগলি তন্নতন্ন করে খুঁজেছি তোমায়..
পারির উপকথা জুড়ে খুঁজেছি তোমার মুখ
সমস্ত উপকথা ভুলে....
প্রিয় নিখিলেশ,
তোমাকে বিরহ করি..🌼
