অসাড় দিনলিপি (১)
![]() |
| অসাড় দিনলিপি (১) |
এই রোবটিক্স ব্যস্ততার ভীরে আমি নন ফিকশন পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পরেছি। যতক্ষণে ঘুম ভাঙলো জেগে দেখি ঝড়ো বাতাস। নন ফিকশন পড়ার ফুরসত নেই। ভালো মানের চাকর হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে আমি!
----
পড়তে বসে দেখি সরল অঙ্ক! নস্টালজিয়ায় ডুবলাম। মনে হয় এইতো বরকোটার সেই পুড়নো স্কুল বিল্ডিং, আজিজ স্যার আর সকালের টিউশন ব্যাচ। চতুর্থ আর পঞ্চম শ্রেণি এক সাথে। সিনিয়ররা ভয় দেখাতো ফাইভে ওঠ বুঝবি ঠ্যালা। সরল করতে করতে পাগল হবি! তারপর হঠাৎ আমিও ক্লাস ফাইভে। নিচ তলার মাঝ বরাবর কৃষ্ণচূড়া সারিতে ক্লাসরুম! জীবন ভেসে বেড়ায় সেসব স্মৃতি গন্ধময় কোচিং এর দিনগুলোতে। দেখলাম আমি সরল ভালোই পারি! আজিজ স্যার বলে কথা।
সেই ভীষণ বাচ্চা মেয়েটারে গাইড করার কেউ নাই ঘরে। দিদি সদ্য ঢাকায় গেলো, মাকে নিয়ে বাবু ইন্ডিয়ায় দৌড়ায়। আমি কি লক্ষ্মী মেয়ের মতোন স্কুল ফিরে পড়তে বসি। মন দিয়ে পড়া শেষ করি। কি তুমুল আগ্রহে। তখন চোখে কোনো স্বপ্ন ছিলোনা। ভালো লাগতো তাই পড়তাম।
মনে হয় বড় হওয়া নামক ট্র্যাপে ফেঁসে গেছি এখন। আরেকটুখানি থেকে জিরিয়ে নিই। জীবন আটকে থাকুক গীতা দিদি মনির বাংলা ক্লাসে।
----
ভোর সকালে স্কুলে গেলে মিতু ঠিকি আমার আগে এসে হাজির। কৃষ্ণচূড়া ফুটে একাকার। আমি, মিতু, সঙ্গীতা মিলে কুড়ি কুড়াতাম, নখ সাজিয়ে রাক্ষস সাজতাম। তখন আমি চেরি ফুল চিনি না আর জীবনানন্দ দাশ আমাকে চেনেন না!
---
তারপর বাড়ি থেকে পাওয়া টিফিনের টাকায় কাঠি আইসক্রিম আর একটা প্রাণের মিলকেন্ডি হলেই এক পৃথিবী সুখ। তখন মনে হতো কুড়ি টাকায় পৃথিবী কেনা যাবে...
---
তারপর বৃত্তি পরীক্ষা এবং আমি সাধারণ গ্রেডের বৃত্তি! কিসব দিন ছিল জীবনে... বৃষ্টি নামলে বাবু যেয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে ছাতা হাতে দাঁড়াতো।
কত-শত বৃষ্টির দুপুর আর বড় ছাতার তলায় বাবুর সাথে কাচা মাটির সোঁদা গন্ধময় পথে বাড়ি ফিরেছি!
----
এই বুড়া বয়সে সরল পড়ার কারনটা ভিন্ন। ভালো লাগার জগৎ তৈরি হয়েছে বলে আমার কোয়েলহুকেই পড়তে মন চাইছে। কিন্তু বারণ!
----
ক্লান্তি মাখা চোখে ঘুমাবো বলে বিছানায় গা এলিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পড়ছি❤️
কুড়ি টাকায় পৃথিবী কেনার বয়স ছেড়ে গেছে বহু আগের স্টেশনেই আমি ফিরেছি জীবনে! দিনশেষে জীবন খেলছে নিত্য খেলা আর আমি ফিরে আসছি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ে! সেই ভীষণ লক্ষী মেয়েটা হারিয়ে গেছে কোথায়...
শুভ রাত
