হতে চাইতাম বুনো লতা...

 

হতে চাইতাম বুনো লতা...
হতে চাইতাম বুনো লতা...

সামাজিক জ্বরের ঘোরে আমি মাতাল। এখন খাবারের সঙ্গে চাও ঘরে দিয়ে যায়। হোমডেলিভারির  চা আর রাত জাগা ঘুম ঘুম চোখ। কখনো ক্লান্ত হয়ে বইয়ের গায়ে মাথা রেখে অঘোরে ঘুমাচ্ছি! জেগে দেখি অনেক বেলা।  

যাদের দেখেছি, তারা এতো পড়ে যে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়। এত বড় চেয়ারে নিজেকে বেমানান মনে হয়।

নেগেটিভ মার্ক খেয়ে আমি ছিটকে পরবো এই লাখো মানুষের পদযাত্রা থেকে। হয়তো এটাই আমার প্রাপ্তি! 

আমি আলবত জীবনে ফিরে আসবো।

শিয়রে রাখা থাকবে ভিক্টর ফ্রাংকেলের সেই মহামান্য বই!

তারপর আমি ডরমিটরির বাইরে যেয়ে পথ ছেয়ে যাওয়া বুনো স্বর্ণলতা দেখবো। ভাবব,  এই তো!

এটুকুই হতে চাই জীবনে! এই আমার চাওয়া।

প্রিয় নিখিলেশ, 

তোমাকে লেখা চিঠিতে ফুটে ওঠবে, নীলক্ষেতের মোড়ের ওই পলাশ...

জীবনের খাতা জুড়ে থাকবে বিস্তীর্ণ ব্যর্থতা আর উপহাস!

আমি বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে, এমনে ওমনে কাটিয়ে দিব জীবন...

দূর পাল্লার সবগুলো ট্রেন আসবে যাবে..

আমি প্যারিসের পথে ছুটবোনা কখনো

সমস্ত প্রয়োজনীয় জায়গায় আমার গভীর ব্যর্থতার ছাপ হয়তো জীবনের সব দেয়ালি সাঁটিয়ে থাকবে

তারপর নিরবে দূরে একটা পাহাড় পুড়বে...

ক্লান্ত আমি দেখবো,  সামাজিক জ্বরের ঘোড়ে আমিও মাতাল...

তারপর ভাবব আমি গর্দভ, মুর্খ ও বিসিএসের মতোন পরীক্ষায় বসেছি!!

কিনে জমিয়ে রাখা বই গুলো না পড়ে ডাইজেস্ট পড়েছি। 

অথচ আমি সামাজিক জ্বরের পদবি চাই ই না।

অমলা রোদ্দুর হতে চেয়েছিল

আর আমি 

হতে চেয়েছিলাম বুনো লতা...

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url